desh somoy logo
ঢাকাSunday , 17 August 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলা
  6. চট্টগ্রাম বিভাগ
  7. চাকরি
  8. ঢাকা বিভাগ
  9. ধর্ম
  10. প্রযুক্তি সময়
  11. বরিশাল বিভাগ
  12. বানিজ্য
  13. বাংলাদেশ
  14. বিনোদন
  15. বিশ্ব
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মতলবে ব্রীজ নির্মাণে দুর্নীতি ও প্রাননাশের হুমকি দেওয়ায় দুই কার্য-সহকারির বিরুদ্ধে পিআইও’র জিডি

দেশ সময়
August 17, 2025 10:56 am
Link Copied!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব মোঃ সেলিম খানকে দুই কার্যসহকারি ঠিকাদারের সাথে মিলেমিশে দুর্নীতি ও হুমকি দেওয়ায় মতলব উত্তর থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে। গত ১০ আগষ্ট মতলব উত্তর থানায় এই জিডি করেন পিআইও সেলিম খান। জিডিতে ১নং বিবাদী সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্যসহকারি, মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি কিনাচকের মোঃ হযরত আলীর (আবির)। ২নং বিবাদী মতলব উত্তর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক কার্যসহকারি ও বর্তমান সোনাইমুড়ি উপজেলা কার্যসহকারি মোঃ আব্দুল কুদ্দস।

প্রান নাশের হুমকিতে আতঙ্কগ্রস্ত পিআইও সেলিম খান তাঁর দাখিল কৃত জিডিতে উল্লেখ করেন, বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৫০টি সেতু হতে ২৮টি সেতু অসম্পন্ন অবস্থায় থাকায় তা বাস্তবায়নের জন্য কার্যসহকারী মোঃ আব্দুল কুদ্দুসকে নিয়ে নিয়মিত ৪/৫টি সেতু পরিদর্শন করি। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্রায় প্রত্যেকটি সেতুর কাজই নিম্ন-মানের। কর্তৃপক্ষের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কোথাও কর্দমাক্ত অবস্থায় কাজ চলমান, কোথাও এবাটমেন্ট ওয়ালে উচ্চতা কম করে বেইজ ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে । কোথাও উয়িং ওয়ালগুলো উচুনিচু আকাবাকা ও দৈর্ঘ্য কম। এ বিষয়ে মোঃ আব্দুল কুদ্দুস কে কোন প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর ছিল একই সাথে অনেক কাজ চলে, আমাদের জনবল কম, এছাড়া কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কার্য-সহকারী মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করতে বললে সে ঠিকাদারদের প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করত। এভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে শুধু লেবার ঠিকানায় মোঃ নাজির প্রধানের সাথে কাজের শিডিউল, মান, উচ্চতা, দৈর্ঘ্য বা ড্রয়িং মোতাবেক কাজ নিয়ে আলোচনা হতো। ১০-১৫টি কাজের জন্য ঐ একজন সাব ঠিকাদার নিয়োজিত ছিল যা বিধি বহির্ভূত!

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব মোঃ সেলিম খান আরও জানান,
মতলব উত্তরে চলমান ২৮টি সেতু হতে ০৪টি সেতুর আন-অফিসিয়ালী ঠিকাদার আমাদের অধিদপ্তরের ০১নং বিবাদী ও ২নং বিবাদী। গত ফেব্রুয়ারী মাসে সেতুর টপ প্লাব ঢালাই কালে সিলিন্ডার স্যাম্পল রাখতে বলার পরও তিনি তা রাখেননি। এমনকি সন্ধ্যায় যে স্টোনচিপস সাইটে দেখানো হয়েছে আমি বাদী চলে আসার পর রাতে নিম্নমানের স্টোনচিপস সাইটে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাগানবাড়ী বাজারের দক্ষিণ পাশে কে-২ খালের উপর গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজে সেতুর রড বাইন্ডিংকালে ২৫ মিলি এর জায়গায় ২০ মিলি ব্যবহার, ২০ মিলি জায়গায় ১৬ মিলি ব্যবহারসহ ব্যবহার করায় তাকে খুলে পুনরায় রড বাইন্ডিং করতে বাধ্য করা হয়। সেখানেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেলে সেচ পানি ছেড়ে দেওয়ার অযুহাতে তড়িগড়ি করে কাজ নিম্নমানের করা হয়।

এছাড়া এবাটমেন্ট উচ্চতা চোখে পড়ার মত কম করে। এসবই নিয়ন্ত্রন করত ২নং বিবাদী মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। এছাড়া ২নং বিবাদীর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগন অভিযোগ করেন (টাকা দিয়ে এক স্থানের সেতু আরেক স্থানে স্থানান্তর, সেতু করে দেওয়ার নাম করে সাধারন জনগনের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ, অনুমোদিত সেতুর স্থানের গাছ কাটা ও লেআউট প্রদানের পর টাকা দিয়ে সেতু অন্য জায়গায় স্থানান্তর, টিআর/কাবিখা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা গ্রহণ, এইচবিবির জামানত আত্মসাৎ ইত্যাদি। এর পাশাপাশি সকল ঠিকাদার সিন্ডিকেট করে এভাবে তিন হাত হতে কেনা কাজের দোহাই দিয়ে আমাকে অসহযোগীতার মধ্যে দিয়ে সেতুগুলোর কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। সাইট অর্ডার বুক কখনও সাইটে উপস্থাপন করা হতো না। প্রত্যেকের সেতুর কাজেই এবাটমেন্ট উচ্চতা কম, উয়িং ওয়ালের দৈর্ঘ্য কম করা হয়েছে একমাত্র অধিক মুনাফার আশায়। কখনও মূল ঠিকাদার সাইটে আসিত না এবং অফিসে যোগাযোগ করিত না, এমকি মোবাইলেও তাদের যোগাযোগ করা সম্ভব হতো না। তাদের প্রতিনিধিদেরকে বারবার ড্রয়িং, ডিজাইন মোতাবেক কাজ করতে বলা হতো। ড্রয়িং মোতাবেক কাজ করা না হলে বিল কর্তন করা হবে বা কাজ অনুযায়ী বাস্তবতার নিরিখে পরিমাণ পূর্বক বিল দেয়া হবে মর্মে বার্তা দেয়া হলে সকল ঠিকাদার প্রতিনিধিকে ১নং ও ২নং বিবাদী সুসংগঠিত করেন এবং আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন যড়যন্ত্রের ফাঁদ তৈরী করেন। আমাকে বদলী করার চেষ্টাসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে দাঁড়িয়ে একেক সময় ঠিকাদারদের একেক প্রতিনিধি গালমন্দসহ ঠিকাদারের একজন প্রতিনিধি আমাকে নিয়ে মারা যাবে মর্মে হুমকি প্রদান করেন। জনশ্রুতি আছে ১নং বিবাদী দীর্ঘ ৮/৯বছর কার্য-সহকারীর সাইনবোর্ড লাগিয়ে ঠিকাদারী ব্যবস্যসহ চাল গমের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছেন কখনও অফিস করেননি।

জানা যায় এরপর চাঁদপুরের শাহরাস্তি ১বছর পূর্বে পদায়ন হলেও কখনও অফিস করেননি। বরং মতলব উত্তর ও দাউদকান্দি উপজেলায় বেনামে অবৈধভাবে ঠিকাদারী কাজ করেছেন। এর কিছুদিন পর অর্থাৎ জুন মাস অতিবাহিত হওয়ার পর গত ১০/০৭/২০২৫খ্রি. তারিখে তাদের ১৭টি কাজের চূড়ান্ত বিল (AS Built) ঢাকায় অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয় (উক্ত চূড়ান্ত নিলে কার্যাদেশ মুল্য হইতে বাস্তবতার নিরীক্ষায় ৯৫,০৩,৪৩৭/-টাকা কম করা হয়েছে)। ১নং বিবাদী উক্ত বিলের বিষয় জানতে পেরে বাদীর উপর ক্ষীপ্ত হয়ে গত ২৭/০৭/২০২৫খ্রি. তারিখে স্বশরীরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিল কর্তন করায় হুমকী সরুপ বলে এই বিল আদায়ের জন্য যা যা করা দরকার তা তা করা হবে ও যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার সেখানে সেখানে যাবে এবং পিআইওকে আমি দেখে নেব। এছাড়া পিআইও দপ্তরে এসে স্ট্যাফদের সামনে জানিয়েছে সে প্রয়োজনে দরকার হলে সে মারামারি করবে। সে বিভিন্ন ভাবে নামে-বেনামে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ, পত্রিকায় মিথ্যা নিউজ করানোসহ রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বাদীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার হুমকীর মধ্য দিয়ে জীবন নাশ ও যেকোন দুর্ঘটনার আশংকা করছি। কাজেই সরকারী দপ্তরের একজন প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মচারী এইভাবে হুমকি ও ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারেনা। আমি হুমকী দেওয়ার পর হতে প্রান নাশের ভয়ে সরকারী কাজ করতে পারছেন না। তিনি এবিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধিসম্মত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।