গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঝাড়াবর্ষা গ্রামে এক নারীর বাড়ি ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সানজিদা শেলী শাপলা দাবি করেছেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সম্পত্তি দখল করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সানজিদা শেলী শাপলা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৪ সালে সাঘাটা উপজেলার ঝাড়াবর্ষা মৌজায় তিনি ও তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম যৌথভাবে পাঁচ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে নিজের আড়াই শতক জমির ওপর চারতলা ভিত্তির একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করে দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন।
তার অভিযোগ, একপর্যায়ে স্বামী আশরাফুল ইসলাম তার অজান্তে ভবনসহ সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ২০২৫ সালের ৮ জুলাই নিজের অংশের আড়াই শতক জমি দুই ছেলে আসিফ রেজা শুভ ও আবির তানভীর আরিয়ানের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
সানজিদা শেলী শাপলার দাবি, পারিবারিক এই বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জিল্লুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা শুরু করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জিল্লুর রহমান তার স্বামীকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে উৎসাহিত করেন। যদিও সম্পত্তির একটি অংশ তার দুই সন্তানের নামে নিবন্ধিত থাকায় সেখানে একক মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ২৭ মে ভোরে জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় তাকে ও তার দুই সন্তানকে মারধর করে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর সাঘাটা থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তিনি ও তার সন্তানরা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তার বড় ছেলে আসিফ রেজা শুভ চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে আবির তানভীর আরিয়ান মাদ্রাসার নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে সানজিদা শেলী শাপলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্তানদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান। এ সময় তার দুই সন্তানও উপস্থিত ছিলেন।
