সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন, পরীক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ এবং তাদের শিক্ষা, স্বপ্ন ও মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির যথাযথ মূল্যায়নের জন্য সময়মতো এবং সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করাও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ব্যতীত দেশের অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।

চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
তবে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের বাকি জেলাগুলোতে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় যাতায়াতে সমস্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীরা অসুবিধায় পড়লে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি কিংবা পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে দুটি ত্রুটির তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পুরোনো ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, অপপ্রচার চালানো কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উসকানি দেওয়া জনস্বার্থের পরিপন্থী। এ ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
