২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন করতে দামেস্কে গিয়ে নিখোঁজ হন মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইস। ফাইল ছবি
এ বিষয়ে শীর্ষ গোপন গোয়েন্দা নথিগুলো থেকে এই তথ্য জানা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
সাবেক সিরিয়ান কর্মকর্তারাও বিবিসিকে টাইসের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মার্কিন সরকার বলেছে, তারা বিশ্বাস করে টাইসকে সিরিয়ার সরকার আটক করে রেখেছে। কিন্তু আসাদ সরকার বারবার তা অস্বীকার করে। এছাড়া কখনই তার আটকের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
বেশ কয়েকজন সাবেক শাসন কর্মকর্তার সাক্ষ্যসহ গোয়েন্দা তথ্যগুলো থেকে এখন জানা যাচ্ছে যে, টাইসের অপহরণের পর তার সাথে কী হয়েছিল।
টাইস ২০১২ সালের আগস্টে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে নিখোঁজ হন। তার ৩১তম জন্মদিনের কয়েকদিন পরেই। তিনি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
এর প্রায় সাত সপ্তাহ পর, অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে চোখ বেঁধে, হাত বেঁধে ইসলামী বিশ্বাসের ঘোষণা পাঠ করতে বাধ্য করছে।
ভিডিও থেকে এমন একটি ধারণা পাওয়া যায় যে, টাইসকে একটি জিহাদি গোষ্ঠী অপহরণ করেছে। তবে তা নিয়ে বিশ্লেষক এবং মার্কিন কর্মকর্তারা দ্রুত প্রশ্ন তোলেন। যারা দাবি করেন দৃশ্যটি সাজানো হতে পারে।
কোনো গোষ্ঠী বা সরকার কখনও তার নিখোঁজের দায় স্বীকার করেনি এবং তারপর থেকে তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বেঁচে আছেন না মারা গেছেন তা নিয়েও ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়।
এক বছর আগে রেডিও ৪-এর একটি পডকাস্ট সিরিজের জন্য শুরু হওয়া চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে বিবিসি এই তথ্যটি উন্মোচন করেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়া সরকারের টাইসের আটকের প্রথম প্রমাণ হলো এসব গোয়েন্দা নথি।
‘অস্টিন টাইস’ লেবেলযুক্ত ফাইলগুলো সিরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন শাখার সাথে যোগাযোগ করে করা হয়েছে। বিবিসি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের সত্যতা যাচাই করেছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।
‘অতি গোপন’ হিসেবে চিহ্নিত একটি যোগাযোগে দেখা যায় যে টাইসকে ২০১২ সালে দামেস্কের রাজধানীতে একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
এছাড়া একজন সাবেক সিনিয়র সিরিয়ান গোয়েন্দা কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন যে টাইসকে দামেস্কে একটি আধাসামরিক গোষ্ঠী আটক করেছে।
একজন সিরিয়ান কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন টাইস কমপক্ষে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে ছিলেন।
সেই সময় টাইসের পেটের সমস্যা দেখা দেয় এবং কমপক্ষে দুবার ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করা হয়। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে তিনি সেই সময় ভাইরাল সংক্রমণে ভুগছিলেন।
এরপর টাইস তার কক্ষের জানালা দিয়ে বন্দিদশা থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরে তাকে পুনরায় আটক করা হয়। সিরিয়ার সরকারের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাকে কমপক্ষে দুবার জিজ্ঞাসাবাদও করেছিলেন। ঘটনাটি ২০১২ সালের শেষের দিকে এবং ২০১৩ সালের প্রথম দিকের মধ্যে ঘটেছিল বলে ধারণা।
পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যখন আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, তখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন টাইস এখনও বেঁচে আছেন। তার দুই দিন আগে, টাইসের মা, ডেব্রা টাইস বলেছিলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ নিশ্চিত করেছে যে টাইস বেঁচে আছেন এবং তার সাথে ভালো আচরণই করা হচ্ছে।
কিন্তু আসাদের পতনের পর যখন কারাগারগুলো খালি করা হয়, তখন টাইসের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং তার অবস্থান এখনও অজানা। এখনও তিনি কোথায় আছেন বা কী তার পরিণতি তা জানা যায়নি।
টাইসকে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আটক আমেরিকান জিম্মিদের একজন বলে মনে করা হয়।
