পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম পুনরায় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সারজিস আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী, অযৌক্তিক ও তুঘলকি’ বলে আখ্যায়িত করেন।
পোস্টে সারজিস আলম বলেন, সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে সাধারণ মানুষ এমনিতেই নানা সংকটে রয়েছে। এর মধ্যেই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই সরকার দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে দাম বাড়ানো সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, যার বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা কঠিন হবে।
ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিকবার মূল্য বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বারবার জনগণকে এর মাশুল দিতে হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে এবং এর সুবিধা পাচ্ছে প্রভাবশালী গোষ্ঠী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের মতো বর্তমানেও রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানেও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে সুশাসন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সবশেষে সারজিস আলম প্রশ্ন রাখেন, ‘এটাই কি সবার আগে বাংলাদেশের নমুনা?’
