১৫ সদস্যের কাউন্সিলকে সায়মা বলেন, ‘কোনো ধরনের বিভ্রান্তিই তথ্য গোপন করতে পারবে না। ভারত বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আগ্রাসন চালিয়েছে এবং আমার দেশে এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও হত্যাকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাম হামলার পর মোদি সরকারের একতরফা সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত এমনকি পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে এমন নদীর প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে নিজেদের বিতর্কিত করেছে। জল যুদ্ধের অস্ত্র নয়।’
পহেলগাম ঘটনা নিয়ে সায়মা বলেন, ‘যদি ভারতের লুকানোর কিছু না থাকত, তাহলে তাদের এই ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন তদন্তে সম্মত হওয়া উচিত ছিল।’

২২ এপ্রিল পহেলগামে পর্যটকদের উপর হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হন। এরপর, ভারত তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানকে এই হামলার জন্য দায়ী করে, যদিও দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি ভারত। অন্যদিকে ইসলামাবাদ ভারতের এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
এরপর বেশ কয়েকটি পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের পর সামরিক সংঘাতে জড়ায় ভারত-পাকিস্তান।
কাউন্সিলর সায়মা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৬ থেকে ১০ মে পর্যন্ত ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আগ্রাসন চালিয়েছে। নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের উপর বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছে।
যার ফলে ৭ জন নারী ও ১৫ জন শিশুসহ ৪০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ জন নারী ও ২৭ জন শিশুসহ ১২১ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘ভারত যদি সত্যিই শান্তি, নিরাপত্তা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তাহলে তার উচিত রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করা। কাশ্মীরিদের উপর নিপীড়ন বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে তার বাধ্যবাধকতা মেনে চলা এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের ইচ্ছা অনুসারে জম্মু কাশ্মীরের বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য অর্থপূর্ণ সংলাপে অংশগ্রহণ করা।’
