desh somoy logo
ঢাকাSunday , 29 June 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খুলনা বিভাগ
  6. খেলা
  7. চট্টগ্রাম বিভাগ
  8. চাকরি
  9. ঢাকা বিভাগ
  10. ধর্ম
  11. প্রযুক্তি সময়
  12. বরিশাল বিভাগ
  13. বানিজ্য
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের ঘূর্ণাবর্ত

দেশ সময়
June 29, 2025 10:04 am
Link Copied!

শনিবার, ২৮ জুন সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশ থেকে আগে স্থানীয় নির্বাচন এবং সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চ কক্ষে আসন বণ্টনের দাবি উচ্চারিত হওয়ার পর আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে নতুন করে সন্দেহ-সংশয়ের ঘূর্ণিজাল তৈরি হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার লন্ডন বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী মহলের কাছে মনে হয়েছিল আশংকার কালো মেঘ কেটে গেছে। কিন্তু দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই নতুন করে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংশয় তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে বিএনপিতে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের দিক থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট কোনো বার্তা না দেওয়ায় এ নিয়ে জল্পনাকল্পনা বাড়ছে।

বিএনপির কিছু কিছু সূত্র জানাচ্ছে, লন্ডন বৈঠকের কোনো প্রতিফলন নির্বাচনের কমিশনের কার্যক্রমে দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশিে ইসলাম-পন্থী দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) আসন বণ্টনসহ কিছু বিষয় নতুন করে সামনে আনার চেষ্টা করছে। এমন তৎপরতাকে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রয়াস বলে মনে করছে বিএনপি।

গত বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। তাঁরা দীর্ঘ সময় একান্তে কথা বলেন। বিএনপির নীতি–নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা ধারণা করেছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে সিইসিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সরকারের দিক থেকে এই বৈঠককে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনও কোনো বক্তব্য দেয়নি। এ বিষয়ে গত শুক্রবার, ২৭ জুন বিকেলে লন্ডন বৈঠকে যৌথ বিবৃতিদাতাদের অন্যতম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদি উভয় পক্ষ থেকে জাতির সামনে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়, তাহলে আমরা আশ্বস্ত হই।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের ওই সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংস্কার প্রক্রিয়া কতটা এগিয়েছে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসির কাছে জানতে চেয়েছেন। তবে কবে নাগাদ নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি বলেই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

১৩ জুন লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সব প্রস্তুতি শেষ করা গেলে ২০২৬ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও (ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে) নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে বলে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। সে ক্ষেত্রে ওই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, তাঁদের কাছে এখন পর্যন্ত সরকারের দিক থেকে লন্ডন বৈঠকের ওই ঘোষণার কোনো প্রতিফলন নেই। বর্তমান ইসি বাতিলের দাবি এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও জাতীয় পাটিকে (জাপা) নিষিদ্ধ করার দাবিও আবার সামনে আনা হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত মহাসমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিসের দুই ভাগসহ সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের পক্ষের দলগুলোর নেতারা আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নিয়েছেন। তবে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বিএনপি তো সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির বিপক্ষে। সে কারণে আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানাইনি।’

বিএনপি মনে করে, এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই। আর সংখ্যানুপাতিক হারে আসন বণ্টনের নির্বাচন একটি জটিল প্রক্রিয়া। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য শনিবার, ২৮ জুন রাতে সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং আনুপাতিক হারে নির্বাচনের দাবি করছে, এটা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান হতে পারে; কিন্তু সেটা আমাদের সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো বিষয় নয়। এটা অবিবেচনাপ্রসূত।’ তিনি বলেন, ‘যারা যারা স্থানীয় নির্বাচন ও আনুপাতিক হারে নির্বাচনের মতো এসব দাবি তুলছে, তাদের একটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, হয় নির্বাচন বিলম্বিত করা, অথবা নির্বাচন না হওয়া। এ বিষয়গুলো আমাদের কাছ মনে হয়েছে।’

বিএনপি’র এই যুক্তিকে অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শক্ত এবং বিরুদ্ধ মত খণ্ডন উপযোগী বলে মনে করছেন না। প্রচলিত ধারার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে ফলাফল নির্ধারণের প্রক্রিয়াতে অভ্যস্ত কোনো রাজনৈতিক দল ভিন্ন কোনো চিন্তার বাস্তবায়নে দ্বিমত পোষণ করবেন-সেটাই স্বাভাবিক। ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরিতে অনীহাও বিএনপি’র সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি বিরোধিতার অন্যতম একটি কারণ বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিএনপি’র একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়েও একটা জটিলতার আশঙ্কা করছেন। এর মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মোটামুটি ঐক্যের পথে থাকলেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ‘ঘোষণাপত্র’ নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলো এখনো একমত হয়নি।

বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করছেন, সরকার জুলাই ঘোষণাপত্র এনসিপি বা তাদের সমমনাদের মতো করে তৈরি করতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছে। এর বাইরে সরকার কিছু করলে বিএনপি তাতে একমত হবে না। এমন কিছু হলে এ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে, যা জাতীয় নির্বাচনকে বিলম্বিত করার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে তিনি কোনো সংশয় দেখেন না। তাঁর মতে, ‘বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে এবং চলতে হবে। এ নিয়ে কারও খেলাধুলা করার সুযোগ নেই। যারা গণতন্ত্রের পথে বাধা দেবে, জাতীয় নির্বাচনকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করবে, তারা গণতন্ত্রের শত্রুতে পরিণত হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।