টানা বৃষ্টি, কাদাপানি ও বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বন্দুকের ফাঁকা গুলির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ঈদের জামাত।
এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। এতে ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
ভোর থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহ ময়দানে আসতে থাকেন। কেউ ছাতা, কেউ পলিথিন, আবার কেউ জায়নামাজ মাথায় দিয়ে মাঠে অবস্থান নেন।
নামাজ চলাকালে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলেও মুসল্লিদের উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি। কাদামাখা মাঠেই অনেকে পলিথিন বিছিয়ে এবং কেউ কাদাপানিতেই সেজদা দিয়ে নামাজ আদায় করেন। পরে বৃষ্টিতে ভিজেই মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদগাহে প্রবেশের সময় মুসল্লিদের তল্লাশি করা হয়। পুরো মাঠজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করেন বিজিবি, র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, গোয়েন্দা পুলিশ ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। এছাড়া মাঠকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রাখা হয়। জরুরি সেবার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয় দুটি বিশেষ ট্রেন।
ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় শোলাকিয়ায় মুসল্লির উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে নামাজ আদায় করে আসা অনেক মুসল্লি এবারও অংশ নেন।

করিমগঞ্জ উপজেলার সাঁতারপুর এলাকার রইছ উদ্দিন জানান, তিনি টানা ৫৫ বছর ধরে শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করছেন। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকার মানুষকে আরও বেশি শোলাকিয়ামুখী করার আহ্বান জানান তিনি।
জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায় করেছেন। এজন্য তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দ থেকেই পরবর্তীতে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যদিও এ বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে।
