বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চলতি বছরের কোরবানির মৌসুমে কাঁচা চামড়া পাচার হওয়ার কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই। তাঁর মতে, চামড়া যেখানে সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় তিনি সাভারের আমিনবাজার এলাকায় কাঁচা চামড়া কেনাবেচার কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং তা দ্রুত ট্যানারি শিল্পে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পুরো ব্যবস্থাকে একটি আধুনিক ও স্থায়ী অবকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাঁচা চামড়া বা ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া সরাসরি রপ্তানি করা যায় না। তবে এই চামড়া দিয়ে জুতা, বেল্টসহ বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করলে অনেক বেশি মূল্য সংযোজন সম্ভব হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ কারণে সরকার এখন চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার (২৯ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরী-এর ট্যানারি কারখানাগুলোতে বিপুল পরিমাণ কোরবানির কাঁচা চামড়া প্রবেশ করছে। রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়াবাহী ট্রাক একের পর এক শিল্পনগরীতে পৌঁছাতে দেখা যায়।
শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান, শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মোট ১,৫১৯টি ট্রাকে প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০টি চামড়া এসেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৯টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ১৬ হাজার ৯০টি।
তিনি আরও জানান, এখন মূলত লবণযুক্ত চামড়া আসা শুরু হয়েছে, কারণ রক্তযুক্ত চামড়া সংগ্রহ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবারের মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি চামড়া সংগ্রহ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
