পবিত্র ঈদুল আজহায় পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সংগ্রহ করা চামড়া নদীতে ফেলে দিতে দেখা গেছে এক মৌসুমি ব্যবসায়ীকে। চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি ওই ব্যবসায়ীর।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার বল্লা ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত লাঙ্গুলিয়া নদীতে কয়েকটি গরুর চামড়া ফেলে দিতে দেখা যায় রহিজ আলী নামের এক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীকে।
জানা গেছে, ঈদের দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরু ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করেন। কেউ ভ্যানে, কেউ পিকআপে করে চামড়া কিনে বিভিন্ন স্থানে মজুত করেন।
তাদের আশা ছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার দাম বাড়বে এবং কিছু লাভ হবে। কিন্তু প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী চরম হতাশায় পড়েন। কেউ কম দামে চামড়া বিক্রি করেন, আবার কেউ চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ফেলে দিতে বাধ্য হন।
নদীতে চামড়া ফেলে দেওয়া ব্যবসায়ী রহিজ আলী জানান, তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। দিনভর চামড়া কিনে বল্লা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এনে জমা করি। আশা ছিল অন্তত কিছু লাভ হবে, না হলেও মূলধন ফিরে পাব। কিন্তু পরে আর কোনো ক্রেতা পাইনি। বাধ্য হয়ে কিছু চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছি। এতে আমার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
তবে কিছু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, লোকসানের আশঙ্কায় তারা সন্ধ্যার দিকে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে অল্প লাভে বা মূলধনের কাছাকাছি দামে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়া বিক্রিতে কোনো সমস্যা হলে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে জানাতে পারতেন। আমরা বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম। চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়া ঠিক হয়নি।’
ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কম দাম, সংরক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাবে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
