গাইবান্ধা শহরজুড়ে এখন ফুটবল উন্মাদনার আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় শহরের বিভিন্ন এলাকা যেন পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশে। জার্সি, পতাকা ও নানা সাজসজ্জায় ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ চোখে পড়ছে সর্বত্র।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আর্জেন্টিনা ভক্তদের সরব উপস্থিতি ফুটবল উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে কেউ পতাকা উড়াচ্ছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে খেলা ও দল নিয়ে আলোচনা করছেন। সব মিলিয়ে শহরজুড়ে বইছে ফুটবল উন্মাদনার হাওয়া।
এ উন্মাদনার মাঝে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে শহরের খানকা শরীফ এলাকার আলম মিয়ার চায়ের দোকান। দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত আলম মিয়া জানান, ১৯৮২ সাল থেকে তিনি আর্জেন্টিনার খেলা অনুসরণ করছেন এবং আজও সেই ভালোবাসা অটুট রয়েছে।
তিনি বলেন, “যতদিন বেঁচে থাকব, আর্জেন্টিনার সমর্থন করেই যাব।”
স্থানীয়দের মতে, আলম মিয়ার চায়ের দোকানটি এখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অন্যতম মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দোকানের ভেতর ও বাইরে নীল-সাদা রঙের আর্জেন্টিনার পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। দেয়াল, ছাদ ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো পতাকাগুলো ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের গভীর ভালোবাসারই প্রতিফলন।
খেলার সময় আলম মিয়া নিজ দোকানেই বসে ম্যাচ উপভোগ করেন এবং অন্যান্য সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের আরও কাছে টেনেছে এবং গাইবান্ধার ফুটবল সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
খেলা শুরুর আগেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, পুরো গাইবান্ধা যেন এখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এক ক্ষুদ্র স্টেডিয়ামে রূপ নিয়েছে, যেখানে ফুটবলই মানুষের প্রধান আলোচনার বিষয় ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দু।
