ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চাইলেও কোনো মূল্যে দিয়ে চুক্তি করবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি আরোপের পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য নয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাহরাইনে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রুবিও বলেন, আমরা একটি চুক্তি চাই, তবে তা কোনো মূল্য দিয়ে নয়। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, এমন কোনো চুক্তি হবে না যা উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়। এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বৈঠক শেষে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়েও সমাধান প্রয়োজন।
এদিকে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে ওমান উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, জাহাজটির ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এর ওপর কোনো রাষ্ট্র এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বা ফি আরোপ করতে পারে না।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো একক রাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয়। এই নীতি ভেঙে গেলে বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
জিসিসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও তাদের যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিঃশর্ত ও বাধাহীন নৌচলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেন, হরমুজ প্রণালির জন্য যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তাতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ট্রানজিট ফি আরোপের বিষয় নেই। যদিও এর আগে ওমান ও ইরান জানিয়েছিল, প্রণালিতে দেওয়া বিভিন্ন সেবার জন্য সম্ভাব্য চার্জ নিয়ে তারা আলোচনা করছে।
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে বাণিজ্যিক জাহাজকে আগামী ৬০ দিন বিনা খরচে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।
