গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর এলাকায় কলেজছাত্র ফাহমিদ রুমন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি—পিতা ও পুত্রকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
বুধবার (১ জুলাই) র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের এএইচএম রেজাউল করিম সানা (৫৫) এবং তার ছেলে মো. নাসিরুল আহসান আকিব (৩৫)।
র্যাব জানায়, গত ৭ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময় ফারদিন রুহিত (২১) গুরুতর আহত হন। বড় ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদ রুমনের ওপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত দুই ভাইকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফাহমিদ রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফারদিন রুহিত হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা গাইবান্ধা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই প্রধান আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩-এর গাইবান্ধা ক্যাম্পের সিপিসি-৩ এবং র্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাহেরারচালা এলাকার সোয়াইব মার্কেট সংলগ্ন এলাকা থেকে এএইচএম রেজাউল করিম সানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে একই রাতে শ্রীপুরের মাওনা বাজার রোডের খোদাবক্স সুপার মার্কেট এলাকার একটি স্থান থেকে তার ছেলে নাসিরুল আহসান আকিবকেও আটক করা হয়।
র্যাব-১৩ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যা মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
