জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন শেষে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এখন তার মনে হচ্ছে অবসর নেওয়ার সময় এসে গেছে।
সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার হিসেবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাকেই নিজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন মেজর হাফিজ। তিনি বলেন, বিএনপির সদস্য হলেও স্পিকারের আসনে বসে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে চান।
তিনি বলেন, “সংসদের ভূমিকা ফুটবল খেলার রেফারির মতো। দুই দল খেলবে, তারা যেন নিয়ম মেনে চলে, আর প্রয়োজনে আমি যেন ইয়েলো কার্ড বা রেড কার্ড দেখাতে পারি— সেই ধরনের প্রস্তুতি আমার আছে। আমি সবসময় নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করি।”
মেজর হাফিজ আরও বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সরকার ও বিরোধী দলের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংসদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অতীতের তুলনায় আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী সংসদ গড়ে তুলবেন।
তিনি বলেন, “এই সংসদের সদস্যরা অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছেন। তাই আমার বিশ্বাস, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অতীতের সব সংসদকে ছাপিয়ে জনকল্যাণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”
দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, জনগণ যাতে গণতন্ত্রের সুফল পায়, সে জন্য সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশা করেন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাতবার ভোলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া বাণিজ্য, পানিসম্পদ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই অবস্থানে আসতে আমাকে অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করতে হয়েছে। সম্পদ অর্জনের জন্য রাজনীতি করিনি। মানুষের ভালোবাসা ও এলাকাবাসীর সমর্থনই আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।”
অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একসময় তো অবসর নিতেই হবে। আমার মনে হয়, এখন সেই সময় এসে গেছে।”
