ঢাকাSunday , 24 May 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খুলনা বিভাগ
  6. খেলা
  7. চট্টগ্রাম বিভাগ
  8. চাকরি
  9. ঢাকা বিভাগ
  10. ধর্ম
  11. প্রযুক্তি সময়
  12. বরিশাল বিভাগ
  13. বানিজ্য
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫ মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার, প্রকাশ্যে ভয়াবহ তথ্য

Link Copied!

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শিশুদের প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছে শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর জোট ‘চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ’। সংগঠনটির দাবি, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা দেশের শিশু নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

একইসঙ্গে এসব ঘটনার দ্রুত বিচার এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (২৪ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুদের ওপর ধারাবাহিক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা একটি সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব ঘটনা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

Advertisement

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনা প্রমাণ করছে যে শিশুদের জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—কোনো জায়গাতেই পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ৪৬ শিশু। এছাড়া ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হত্যার শিকার হয়েছে অন্তত ১৭ শিশু।

কোয়ালিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার মুরাদনগরে ৮ বছরের এক শিশু ধর্ষণ, ভোলার দৌলতখানে ১২ বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে শিশু ইমনের মৃত্যুর ঘটনা দেশের শিশু নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সংগঠনটি মনে করে, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, আইন প্রয়োগে দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার সংকটের কারণে শিশুরা ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তাদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেছে কোয়ালিশন। এর মধ্যে রয়েছে—শিশুদের প্রতি সব ধরনের সহিংসতার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, পরিবারে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকর রাখা।

এছাড়া শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পাঠ্যসূচিতে শিশু অধিকার ও আত্মরক্ষামূলক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮ সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমাজভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটিকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।

রামিসা হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে কোয়ালিশন। তবে সংগঠনটি বলছে, শুধু গ্রেপ্তার নয়, স্বচ্ছ তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

একইসঙ্গে নিহত রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশু নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।