তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতিশীল জ্ঞান) এবং তামাকবিরোধী গণমাধ্যম জোট ‘আত্মা’ (অ্যান্টি-টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স)।
রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তাঁর হাতে একটি ধন্যবাদপত্র তুলে দেন সংগঠন দুটির প্রতিনিধি দল। ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন’ পাসের মাধ্যমে তামাকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়।
সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাঁর মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তামাকের ব্যবহার কমাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও শুল্ক বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
বৈঠকে প্রজ্ঞা ও আত্মার প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, সংশোধিত আইনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকা বিলুপ্ত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশপাশে তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধ করার মতো পদক্ষেপগুলো জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এই আইনে ই-সিগারেট, ভেপিং ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন প্রজন্মের তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধের বিধানটি বাদ পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। প্রতিনিধি দল সতর্ক করে বলেন, এর ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন করে নিকোটিনের আসক্তি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
আলোচনায় দেশে তামাকের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করছেন এবং তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সংশোধিত আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি ই-সিগারেট ও নতুন প্রজন্মের তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
একই সঙ্গে আগামী জাতীয় বাজেটে সব তামাকজাত পণ্যের দাম ও ট্যাক্স কার্যকরভাবে বাড়িয়ে তা তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় আত্মার আহ্বায়ক মর্তুজা হায়দার লিটন, সহ-আহ্বায়ক নাদিরা কিরণ, সদস্য শফিকুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন এবং প্রজ্ঞার পরিচালক মনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
