ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ (মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে তা দাখিল করতে না পারায় আগামী ৩০ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ২০ মে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।
পরবর্তীতে ওই আদেশ বাতিলের আবেদন করেন বাদীপক্ষ। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২২ জুন সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা আদালতের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ মারা যান। ওই সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানান।
আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যুর মামলার পাশাপাশি হত্যার অভিযোগও তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সংস্থাটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
তবে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা। তার মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। পরবর্তীতে আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লিও (লুসি), অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বর্তমানে বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
