শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশে শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষাই নয়, বিতর্ক, খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থার একাডেমিক কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। আগামী ২০২৭ সালে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং ২০২৮ সালে একাডেমিক সিলেবাস আধুনিকায়ন করা হবে।
বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিনস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ১০৪ জন শিক্ষার্থীর হাতে ডিন অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এহসানুল হক মিলন বলেন, ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে তা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা খাতে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, নতুন হল নির্মাণ এবং আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানে নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ ব্যয়ের পরামর্শ দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বর্তমানে ধাপে ধাপে এই বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী বছর এটি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তীতে তা ৪ শতাংশ এবং ৫ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আবাসন সংকট, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের ধীরগতি, বাজেট ঘাটতি ও স্বাস্থ্যসেবা সংকট এখনো রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক বক্তব্য দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ডিন অ্যাওয়ার্ডের জন্য কলা অনুষদের ২১ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭ জন, লাইফ অ্যান্ড আর্ট সায়েন্স অনুষদের ২৯ জন এবং আইন ও চারুকলা অনুষদের ৩ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন।
