আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই সারা দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তেও বাড়ির পথে ছুটছেন হাজারো মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। তার ওপর থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। যানজট ও বৃষ্টির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।
মঙ্গলবার থেকেই মহাসড়কটিতে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। করটিয়া এলাকা থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটারজুড়ে ধীরগতির যানচলাচল দেখা গেছে। এছাড়া মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে।
যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব, সেখানে এখন সময় লাগছে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও বাসের ছাদে চড়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকল হওয়া, এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের চলমান নির্মাণকাজ এবং চার লেন প্রকল্পের কিছু অংশ অসমাপ্ত থাকায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে যমুনা সেতুর সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে অতিরিক্ত যানবাহন পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী অনেক যানবাহন ভূঞাপুর সড়ক হয়ে বিকল্প পথে রাজধানীর দিকে পাঠানো হচ্ছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
টাঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে মহাসড়কে ধীরগতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
