রাজধানীর উত্তরায় তুরাগ নদী থেকে মেট্রো দক্ষিণ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি লেককে পুনঃখননের মাধ্যমে আধুনিক বিনোদন ও পরিবেশবান্ধব জনপরিসরে রূপান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, লেকটি ধানমন্ডি লেক ও হাতিরঝিলের আদলে পুনর্বিন্যাস করে চারপাশে টেকসই বাঁধ, সবুজায়ন, হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক, বসার স্থান, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং আধুনিক সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা করা হবে।
উদ্যোক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তুরাগ নদী থেকে সেক্টর ১০, ১১, ১২, ১৫ ও ১৭ হয়ে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি এবং বিজিএমইএ ভবন অতিক্রম করে মেট্রো দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত এই লেকটি উন্নয়ন করা গেলে উত্তরাবাসীর জন্য একটি নান্দনিক ও পরিবেশসম্মত বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, এটি শুধু একটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নয়; বরং উত্তরার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ। একটি পরিকল্পিত লেক নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উদ্যোক্তা আরও জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা টানা প্রায় ৬০ দিন লেক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এখনও নিয়মিত সেখানে কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি লেকসংলগ্ন এলাকায় শিশুদের জন্য একটি ছোট পার্ক নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বপ্ন নয়; বরং উত্তরার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। উত্তরার প্রতিটি পরিবার যেন নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে পারে, শিশুদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং প্রবীণরা নির্মল পরিবেশে হাঁটাচলা করতে পারেন—এমন একটি জনবান্ধব নগর গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উত্তরার লাখো মানুষের এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক নগর হিসেবে নতুন পরিচিতি লাভ করবে।
