টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার অন্তত ১৫টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী, যেখানে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেসে গিয়ে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া এবং বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, জেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ বন্যার কারণে পানিবন্দি রয়েছেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এদিকে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বন্যার পানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা ভবন এবং থানাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাতেও প্রবেশ করেছে, ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
