বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এই এলাকার (ঈশ্বরদী) মানুষের কৃষির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। আমি নিশ্চিত এখানে অনেক কৃষক কৃষির ব্যাপারে যতটা জ্ঞান রাখেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও তা রাখেন না। লিচু সংরক্ষণ কিভাবে করা যায়, তা নিয়ে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। উৎপাদিত ফল যেন নষ্ট না হয়, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।
তিনি আরও বলেন, এ দেশের কৃষকরা নেতৃত্ব দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা-২০২৬’ এ প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (৫ জুন) উপজেলার মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির উদ্যোগে দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় পুরো প্যান্ডেল লিচু ও বিভিন্ন ফল-সবজি দিয়ে সাজানো হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফারজানা শারমিন বলেন, আমরা কৃষিপণ্যে বিপ্লব ঘটাতে চাই। কৃষকদের উৎপাদিত ফল ও ফসল সংরক্ষণ করা গেলে সারা বছর তা পাওয়া সম্ভব হবে, আমদানি করতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে কঠোর পরিশ্রম করছেন। কৃষকদের সমস্যার দিকে সরকারের নজর রয়েছে।
মেলা উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ।
হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, দেশের কৃষি ও বাণিজ্য খাতের বিকাশে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।
বক্তারা বলেন, ঈশ্বরদীতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লিচুর পাশাপাশি ঈশ্বরদীতে বিভিন্ন ধরনের সবজি, আম, কাঁঠাল, জাম, বাঙ্গি ও কলার ব্যাপক আবাদ রয়েছে। এছাড়া ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, মাল্টা ও আঙুরের মতো উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলও এখন এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।
কৃষক নেতারা জানান, কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে বিপুল পরিমাণ ফল ও ফসল উৎপাদন করলেও এখনো ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ কারণে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে কৃষকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু, লিচু গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।
