মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য আরও আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম শাহাদাত হোসেনের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় যাতে জেলেরা মাছ ধরার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থাকেন, সে লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিকল্প আয়বর্ধক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র জেলেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য এম শাহাদাত হোসেন ‘জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে নজরদারি এবং কঠোর অভিযান জোরদার’ বিষয়ে সংসদে নোটিশটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। তবে দারিদ্র্যের কারণে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার সময়ও জাটকা আহরণে বাধ্য হন।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় মাছ ধরার সরঞ্জাম ও পুঁজি না থাকায় অনেক জেলে ‘দাদন’ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এ ব্যবস্থায় মহাজন বা মাছ ব্যবসায়ীরা আগাম অর্থ বা সরঞ্জাম সরবরাহ করেন, যার বিনিময়ে জেলেদের তাদের ধরা মাছ নির্ধারিত মূল্যে ওই মহাজনের কাছেই বিক্রি করতে হয়।
এই নির্ভরতা কমাতে সরকার প্রাণিসম্পদ খাতসহ বিভিন্ন বিকল্প আয়ের কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর ফলে জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময়েও আয় করতে পারবেন এবং দাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটারের কম আকারের ইলিশ বা জাটকা ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় চাঁদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন ইলিশ উৎপাদনকারী জেলা এবং পদ্মা-মেঘনা নদী এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।
