পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে সামাজিক সংগঠন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফাউন্ডেশন’। ‘মাই ট্রি’ নামের এই অ্যাপটি তারা প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দিতে চায়।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক গাছ রোপণ করা হলেও সেগুলোর সঠিক পর্যবেক্ষণ, টিকে থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংরক্ষণের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা এখনো সীমিত। এই বাস্তব সমস্যার সমাধান থেকেই ‘মাই ট্রি’ অ্যাপের ধারণা তৈরি হয়েছে।
এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি রোপিত গাছের জিও-লোকেশন (GPS), রোপণের তারিখ, প্রজাতি, ছবি, বর্তমান অবস্থা এবং বৃদ্ধির তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও ট্র্যাক করা যাবে। এর ফলে শুধু গাছ রোপণের সংখ্যা নয়, বরং কতগুলো গাছ বেঁচে আছে এবং কীভাবে বেড়ে উঠছে—সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করবে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট বাজারের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে অ্যাপটির প্রযুক্তিগত কাঠামো ‘VERA Methodology VM0047 (ARR)’ নির্দেশনার আলোকে তৈরি করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তথ্য যাচাই, পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ৭ জুন ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ‘মাই ট্রি’ অ্যাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, পরিবেশকর্মী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে অ্যাপটির বিভিন্ন ফিচার উন্নয়ন ও যাচাই করা হয়।
এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অ্যাপটির ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এটিকে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান হিসেবে বিবেচনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ‘মাই ট্রি’ অ্যাপ ও ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা হাছিব চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সদস্য মেহেদী হাসান মাহি, কাজী সালমান রহমান, ইয়াকুব শরীফ, নাইম হোসেন, আজিজুর রহমান ফয়সালসহ অন্যান্য সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং পরিবেশ সচেতন তরুণরা।
