দাবি আদায়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কর্মবিরতি আপাতত স্থগিত করেছেন। ইতিমধ্যে চলাচল শুরু করেছে মেট্রোরেল।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত আটটার দিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএমটিসিএল জানায়, মেট্রোরেলের যাত্রীসাধারনের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মেট্রোরেল রাত সোয়া আটটা থেকে উত্তরা উত্তর হতে চলাচল শুরু করেছে।
অপরদিকে, ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক বিজ্ঞপ্তি জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাস অনুযায়ী আগামী ১৮ ডিসেম্বর বিশেষ বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে ‘বিশেষ বিধান’ ব্যতিত চাকরি-বিধিমালা অনুমোদিত হয়ে ১৯ থেকে কার্যকর করা হবে, এই মর্মে পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুসারে চলমান কর্মবিরতি ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ ডিসেম্বর দাবি বাস্তবায়িত না হলে ১৯ ডিসেম্বর কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য থাকবো।
একই সঙ্গে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর আগে একই দিন বেলা তিনটা থেকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় এমডিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।
২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০-র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এখনো কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি।
কর্মীদের অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকে উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেওয়া এসব কর্মচারী দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স/ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ নানামুখী মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
এরপর ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে ২০ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে সার্ভিস রুল চূড়ান্তের আশ্বাস দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ৯ মাস ধরে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধে।
