পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, পাহাড় ও সমতল অঞ্চলে বসবাসকারি জনগণের বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নাগরিক সুবিধা প্রদানে সমতল ও পাহাড়ের মানুষের মধ্যে থাকবে না কোনো বৈষম্য।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পাহাড় অঞ্চলে বসবাসকারি খাসিয়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বছরের পর বছর চলে আসা ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরবেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করবেন।
বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় চা বাগান পরির্দশনে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
সীমান্ত চোরাচালান, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসবের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। মাদক, সীমান্ত চোরাচালান ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি বড়লেখা থানার ওসি ও ইউএনওকে নির্দেশ দেন।
বড়লেখার পর্যটন খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সিলেট ও মৌলভীবাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এই অঞ্চলে বিশেষ করে হাকালুকি হাওর, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, ইকোপার্ক ও চা বাগান কেন্দ্রিক পর্যটন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার পর্যটন উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে একটি ট্যুরিজম বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেখানে তাকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাজ চলছে। যা এই এলাকার পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাধবকুন্ড পর্যটন এলাকার ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন মন্ত্রী। পাশাপাশি পর্যটন এলাকার পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন- মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপ-সচিব) রবীন্দ্র চাকমা, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম, থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক দিনকালের স্টাফ রিপোর্টার আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি আব্দুর রব, প্রচার সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি তপন কুমার দাস, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক মানবজমিন প্রতিনিধি এজে লাভলু প্রমুখ।
