জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১০ জুন) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য সংরক্ষণ করেন।
মামলার শুনানিতে এর আগে ৭ জুন রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে এবং চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। পরে ৮, ৯ ও ১০ জুন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।
প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় নেতা আজগর আলীর দেওয়া এক বক্তব্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়।
এর আগে গত ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। সেদিন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম আদালতে বলেন, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য, ঘটনাগুলো ছিল পরিকল্পিত ও সমন্বিত হামলার অংশ।
মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তারা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
