পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ৩০টি আঙুল ও জিহ্বাবিহীন অবস্থায় জন্ম নেওয়া বিরল শারীরিক বৈশিষ্ট্যের নবজাতক শিশুটি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার বড় মাছুয়া ইউনিয়নের ভোলমারা গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত ৮ জুন উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই দেখা যায়, শিশুটির দুই হাত ও দুই পা মিলিয়ে মোট ৩০টি আঙুল রয়েছে এবং সে জন্মগতভাবে জিহ্বাবিহীন। বিরল এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে শিশুটিকে একনজর দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা ইসমাইল পালোহন একজন দিনমজুর এবং মা জেসমিন আক্তার। এটি ছিল তাদের পঞ্চম সন্তান। এর আগে তাদের সংসারে তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়ার এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পলিড্যাক্টাইলি (Polydactyly)’ বলা হয়, যা সাধারণত জিনগত কারণে হয়ে থাকে। অন্যদিকে জিহ্বাবিহীন অবস্থাকে ‘এগ্লসিয়া (Aglossia)’ বলা হয়, যা অত্যন্ত বিরল জন্মগত জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, জিহ্বা না থাকায় শিশুটির স্তন্যপান, খাবার গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে স্বাভাবিক কথা বলার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছিল।
দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তার বাবা-মা। এ জন্য তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি সহায়তার আবেদনও জানিয়েছিলেন।
নবজাতকের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই শোক প্রকাশ করে মরহুম শিশুটির জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
