বাংলাদেশ সরকার মাতৃমৃত্যু হ্রাসে বড় ধরনের অগ্রগতি আনতে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ সংঘের (আইসিএম) ৩৪তম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েন কেইটা বাংলাদেশের এই বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ইউএনএফপিএ জানায়, মাতৃস্বাস্থ্য খাতে এমন বিনিয়োগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে এবং এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
ডিয়েন কেইটা বলেন, মিডওয়াইফদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা মানে সরাসরি জীবন রক্ষায় বিনিয়োগ করা। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে মাতৃমৃত্যু অনেকাংশেই প্রতিরোধযোগ্য।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৬ হাজার ২১৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাত্র ২ হাজার ৫৫৭ জন মিডওয়াইফ কাজ করছেন। নতুন নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ৭০-এর নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অংশ।
ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন, বাংলাদেশ মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে অঙ্গীকার করেছিল, তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে লাখো পরিবারের সন্তান জন্মদানের অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে এই মিডওয়াইফ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে, যেখানে দক্ষ সেবার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।
