উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া নয় দিনব্যাপী এ উৎসব নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের অংশগ্রহণে উদযাপিত হয়।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথ দেব বিশ্বজগতের অধীশ্বর। ভক্তদের বিশ্বাস, তাঁর কৃপা লাভ করলে মোক্ষ বা মুক্তিলাভ সম্ভব। এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার প্রতিমা সুসজ্জিত রথে স্থাপন করে রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রার আয়োজন করা হয়।
উল্টো রথ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় যজ্ঞ, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, ভাগবত আলোচনা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়।

সকালের পর থেকেই রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। শতাব্দীপ্রাচীন এই ধর্মীয় ঐতিহ্যকে ঘিরে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু ও বিভিন্ন বয়সী ভক্তের অংশগ্রহণে মন্দির এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের উদ্যোগে দিনব্যাপী ধর্মীয় আলোচনা, ভজন-কীর্তন, হরিনাম সংকীর্তন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি বর্ণাঢ্য উল্টো রথ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
দুপুর ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমের উদ্দেশে শোভাযাত্রা শুরু হয়। তিনটি সুবৃহৎ রথে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারাণীকে অধিষ্ঠিত করে শোভাযাত্রাটি পলাশী মোড়, জগন্নাথ হল, জাতীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, কার্জন হল, হাইকোর্ট, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মতিঝিল, শাপলা চত্বর, টিকাটুলি, দয়াগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বামীবাগ আশ্রমে গিয়ে শেষ হয়।
খোল-করতালের সুর, হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তদের জয়ধ্বনিতে পুরো শোভাযাত্রা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পথে অসংখ্য দর্শনার্থী রথে ফুল অর্পণ করে প্রার্থনায় অংশ নেন এবং বর্ণাঢ্য এ আয়োজন উপভোগ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভাগবত আলোচনা, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্য পরিবেশনা, শিশুদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ভজন-কীর্তন এবং ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এবারের রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
