বাগেরহাটে জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, মাজারের খাদেম, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্প্রতি মাজারের দিঘিতে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। গত সোমবার রাতে দিঘির পাড় থেকে ৭-৮ বছর বয়সী এক শিশুকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে দিঘি থেকে ফাতেমা নামের ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানাজা শেষে তাকে মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।
এর আগেও চলতি বছরের এপ্রিলে একই কুমির একটি কুকুরকে পানিতে টেনে নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন থেকেই লোকালয়ের মধ্যে অবস্থিত দিঘিতে কুমির রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।
সভায় মাজার এলাকার নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা কুমিরকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ও তুলে ধরেন। কেউ কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দেন, আবার কেউ নিরাপদ খাঁচা বা সুরক্ষিত আবদ্ধ স্থানে রাখার প্রস্তাব করেন। এছাড়া ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ এবং পুরো মাজার এলাকা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আনার প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়।
জেলা প্রশাসক ও মাজার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম মো. বাতেন জানান, সাম্প্রতিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটিকে দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রাণীটি বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হবে।
এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কুমিরটি স্থানান্তরের বিষয়ে বুধবার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। তারা কুমিরটির অবস্থান ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।
