গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত ফেয়ারডিল (FAIRDYL) ও এসকুফ (ESKUF) নামীয় অবৈধ সিরাপসহ দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সাদুল্লাপুর থানাধীন একবারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ফরিদা বেগম (৪৮), স্বামী বেলাল হোসেন, বাড়ি পালিবটতলী গুচ্ছগ্রাম, বোয়ালদার ইউনিয়ন, হাকিমপুর, দিনাজপুর এবং আনিছা বেগম (৬০), স্বামী তোতা শেখ, বাড়ি মালস্নান ভাবতলা, বগুড়া পৌরসভা, বগুড়া।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় গাইবান্ধার পরিদর্শক তরুণ কুমার রায় এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি রেইডিং টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সহকারী প্রসিকিউটর মোঃ আবু তালহা হিমুন, এএসআই শাপলা রাণী সিংহসহ একাধিক কর্মকর্তা ও ফোর্স সদস্য অংশ নেন।
অভিযানকালে পীরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী একটি সবুজ রঙের নম্বরবিহীন সিএনজি গতিরোধ করা হয়। পরে নারী পুলিশ সদস্য এএসআই শাপলা রাণী সিংহ শালীনতা বজায় রেখে তল্লাশি চালান। তল্লাশিতে ফরিদা বেগমের কাছ থেকে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত ফেয়ারডিল ১৫ বোতল এবং আনিছা বেগমের কাছ থেকে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত এসকুফ ১৫ বোতল উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৩০ বোতলে ৩ হাজার মিলিলিটার বা ৩ লিটার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
ঘটনাস্থলেই আসামিদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় এবং জব্দতালিকা প্রস্তুত করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আলামত থেকে পৃথকভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তারা পরস্পর যোগসাজশে দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত সিরাপ সরবরাহ করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(খ) ধারায় সাদুল্লাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় গাইবান্ধা কর্তৃক পরিচালিত হবে।
