দেশের প্রায় দেড় হাজারের বেশি উচ্চশিক্ষার আলিয়া মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান Islamic Arabic University। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina সরকারের বিদায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জামায়াত ও শিবিরপন্থী একটি সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে।
জানা গেছে, University of Dhaka–এর জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. শামছুল আলম উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জামায়াত সমর্থিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কুষ্টিয়ার Islamic University, Bangladesh থেকে অধ্যাপক ড. অলী উল্লাহ এবং University of Chittagong থেকে অধ্যাপক ড. শাজাতউল্লাহকে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আউয়ুব হোসেনকে রেজিস্ট্রার, Begum Rokeya University থেকে মোহাম্মদ আলীকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং National University, Bangladesh থেকে গিয়াস উদ্দিনকে মাদ্রাসা পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ভিসি ও ট্রেজারারের নেতৃত্বে প্রশাসনের ভেতরে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়। একটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ডিন অলী উল্লাহ ও রেজিস্ট্রার, অন্যটির নেতৃত্বে ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী। তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা—আরিফ, রুহুলা, হান্নান, দিদার, ইকবাল ও রহিত—মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান, পরীক্ষা, তদন্ত, নিয়োগ, টেন্ডার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন।
গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিলসহ বিভিন্ন কমিটিতে জামায়াত বা শিবির সমর্থিত ব্যক্তিদের বাইরে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে আইন ও নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও মাদ্রাসা পরিদর্শক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও, অভিযোগ রয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এখনও জামায়াত–শিবির সমর্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা প্রভাব বজায় রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএস আরিফসহ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পরীক্ষা কার্যক্রম, ক্রয়–সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় দায়িত্বে থাকা আরও কয়েকজন কর্মকর্তা আরিফ —রুহুল্লা, আবদুল হান্নান সাব্বির, দিদার উল্লাহ, ইকবাল ও হারুন অর রশিদ—নিজ নিজ দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করে প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
