পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, তার দল প্রকৃত অর্থে হারেনি; বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘ভোট লুট’ হয়েছে। এ অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা হারিনি, তাহলে কেন পদত্যাগ করব?” তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের ‘ভিলেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অভিযোগ করেন, কমিশনের সহায়তায় বিরোধীরা শতাধিক আসন দখল করেছে।
মমতা আরও জানান, তিনি এখন রাজপথে আন্দোলনে নামবেন এবং দলকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পর তৃণমূল সমর্থকদের ওপর বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এদিকে, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেন তৃণমূল নেত্রী।
পদত্যাগ না করলে কী হবে?
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ বাধ্যতামূলক নয়; এটি মূলত একটি রাজনৈতিক রীতি ও শিষ্টাচার। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৭ মে। ওই সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মমতাই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। মেয়াদ শেষ হলে, তিনি পদত্যাগ না করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং তিনি ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজয়ী দল সরকার গঠনের দাবি জানালে রাজ্যপাল তাদের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। এতে সাংবিধানিক সংকট এড়ানো সম্ভব হবে এবং রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, মমতা পদত্যাগ না করলে রাজ্যপালের উচিত তাকে বরখাস্ত করা। তার এ বক্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, বিজয়ী দল শিগগিরই সরকার গঠন করতে পারে এবং ৯ মে শপথগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনে পরাজয়ের পর কোনো মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগে অস্বীকৃতির নজির নেই। ফলে মমতার এই অবস্থান নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
