বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে Bangladesh Jamaat-e-Islami।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো ব্যাংকিং খাত। একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সুষ্ঠু ব্যাংক ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তবে অতীতে লুটপাট ও অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক খাতকে পুনর্গঠনের পরিবর্তে সরকার নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ব্যাংকই চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় সমন্বিত হওয়ার পরও গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক ব্যাংক ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না এবং তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে। খেলাপি ঋণও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমও গভর্নরের অদক্ষতা ও সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাহত হয়েছে। এতে আমানতকারীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন ব্যাংকে নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অবিশ্বাস ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে তিনি Islami Bank Bangladesh PLC-কে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, বৈধ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জোরপূর্বক অপসারণের চেষ্টা চলছে, যা একটি বেসরকারি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত সরকারি হস্তক্ষেপের শামিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিচালনা পর্ষদে বসিয়ে সফল ব্যাংকটিকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে প্রায় ৩ কোটি আমানতকারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮০ লাখ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের মোট রেমিট্যান্স আহরণ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ ইসলামী ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের আর্থিক সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।
বিবৃতিতে তিনি বর্তমান গভর্নরের সমালোচনা করে বলেন, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে তাকে অপসারণ করে দেশি-বিদেশি পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন পেশাদার ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
একইসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন বোর্ড গঠনের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া আর্থিক খাত ও ব্যাংকসমূহে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনা এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
সবশেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তিনি সরকারকে দ্রুত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
