বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে Bangladesh Jamaat-e-Islami আয়োজিত রংপুরের পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজ হলরুমে সদস্য প্রার্থী ও অগ্রসর কর্মী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা জাতিকে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের বর্বরোচিত অপরাধ রোধে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার সংবিধান ও রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে। বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে মাওলানা আবদুল হালিম ঝিনাইদহে National Citizen Party-এর মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী-এর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ভিন্নমত দমনে সহিংসতার সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন ইতিবাচক হলেও উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
গণভোট, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, চলমান সংকট নিরসনে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও অঞ্চল টিম সদস্য আবদুর রশিদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।
