আজ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’।
জাতিসংঘের উদ্যোগে পালিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর বিশ্বের শতাধিক দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয় এবং এতে কোটি কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকেন।
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বৈশ্বিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, ঘনঘন বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও জনজীবন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃষিখাতকে আরও আধুনিক, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল করে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিগত কাঠামো অনুসরণ করছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ৫ জুন সুইডেনের স্টকহোমে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশবিষয়ক সম্মেলন শুরু হয়। ওই সম্মেলনের স্মরণে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়ে থাকে। ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য ও কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং উন্নয়ন সংস্থা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
