দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও অপরাধমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, দলীয় পরিচয় নয়, বরং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনসহ কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভয়ভীতি, চাপ প্রয়োগ বা কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশনের সুযোগ নেই। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে সংশোধনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১৬ জুন) রাজধানীর সদরঘাটের বাদামতলীতে ঢাকা মহানগর ফল আমদানিকারক-রপ্তানিকারক ও আড়ৎদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সূত্র থেকে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন যে, ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে কিছু প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হচ্ছে কিংবা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন অনিয়মে বিএনপির নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে এর দায়ও দলের ওপর বর্তাবে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এ দায় এড়াতে পারেন না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা সংশোধন করে নির্ধারিত সময়ে ভোট সম্পন্ন করা উচিত। এতে ব্যবসায়ী সমাজ উপকৃত হবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনো পক্ষের হয়ে হস্তক্ষেপ করতে আসেননি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আনতেই তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দলটির নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জেল, জুলুম, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ীও নীরবে সমর্থন দেওয়ার কারণে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ী, সংখ্যালঘু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও অপরাধমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।
গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাই দীর্ঘ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল। রাষ্ট্র, সমিতি ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোতেও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, কেউ অপরাধ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আর কেউ নির্দোষ হলে তাকে সমান সুযোগ দিতে হবে।
সভা শেষে ইশরাক হোসেন বলেন, কাউকে জিম্মি করে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো কিছু অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়। এতদিন যেসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলেছি, এখন যদি আমরাই একই কাজ করি, তাহলে সেটি হবে নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা।
