টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা শহরক্ষা বাঁধ। ঘাঘট নদীর পাড় ঘেঁষা প্রায় ৫ কিলোমিটার এই বাঁধের অন্তত ২৫টি স্থানে দেখা দিয়েছে ধস ও ফাটল। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও নিচ থেকে সরে গেছে মাটি।

অথচ ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধের ওপর দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করছে হাজারো মানুষ, চলছে ট্রলি, ভ্যান, মোটরসাইকেল। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহরবাসীর মাঝে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুটিপাড়া, ডেভিড কোম্পানিপাড়া ও জুম্মাপাড়া এলাকায় বাঁধের অবস্থা ভয়াবহ। ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে ফাটল ধরেছে। বাঁধের বড় অংশ বালুমিশ্রিত মাটি দিয়ে তৈরি হওয়ায় পানি নামার সাথে সাথেই ছোট ফাটল বড় হচ্ছে।

বাঁধের কাঁচা রাস্তা দিয়ে ভারী ট্রলি চলাচল করায় তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মিয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, বাঁধটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষার আগে শুকনা মৌসুমে কাজ করলে টেকসই হতো। এখন বৃষ্টির মধ্যে কাজ করে লাভ নেই।
একই এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বাঁধের অনেক জায়গা নিচু ও সরু হয়ে গেছে। ভ্যান চলাচল করাই দায়। প্রতি বছর শুধু বর্ষা আসলে লোক দেখানোর জন্য বালুর বস্তা ফেলে দায় সারা হয়।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, অতিবৃষ্টির কারণে বাঁধে রেইনকাট ও ধস দেখা দিয়েছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। বড় ক্ষতি ঠেকাতে ইতোমধ্যে ৬-৭টি পয়েন্টে মাটির বস্তা ফেলা হয়েছে। মেরামত কাজ চলছে।
পাউবো সূত্র জানায়, বন্যা ও নদী ভাঙন থেকে শহরকে রক্ষায় ভেরামারা থেকে গোদারহাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার শহরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বছরের পর বছরেও বাঁধটি টেকসই সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বর্ষাতেই হুমকির মুখে পড়ছে জেলা শহর।
স্থানীয়দের একটাই দাবি – লোক দেখানো নয়, দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই মেরামত চাই। নইলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় বিপর্যয়।
