গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পলাশবাড়ী চৌমাথা এবং এর আশপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শরীফ আল রাজীব জানান, একই স্থানে দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থাকায় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জাবের আহমেদের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, ওই এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, স্লোগান, মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্রের ব্যবহার এবং লাঠি, অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সাধারণ যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বিএনপির উপজেলা সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডলসহ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী চৌমাথায় পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বিএনপি ও জামায়াত। একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
