দেশের স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবলের সংকট দূর করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১০ হাজারের বেশি প্রশিক্ষিত কমিউনিটি প্যারামেডিককে (সিপি) সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইতোমধ্যে প্রশিক্ষিত এই জনবলকে সরকারি স্বীকৃতি ও নীতিমালার আওতায় এনে কাজে লাগানো গেলে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর-১৪ এর সাইক মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ফাস্ট হেলথ সার্ভিস কমিউনিটি প্যারামেডিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ৪র্থ কেন্দ্রীয় কমিটি মিলনমেলা ও নতুন কমিটির পরিচিতি সভায় এ দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিপিএইচটি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রকাশ মেডিকেল ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান মীর রবিউল করিম।
প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন সাইক গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু হাসানাত মো. ইয়াহিয়া। সভাপতিত্ব করেন ফাস্ট হেলথ সার্ভিস কমিউনিটি প্যারামেডিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি আশরাফুল আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন অত্র কমিটির সহ-সভাপতি আনজুমান চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদিকা সোনিয়া খান তৃষ্ণা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানম আক্তার সহ আরো
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ৪৪ দশমিক ৫ জন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৩ জন। গ্রামীণ এলাকায় এ সংকট আরও প্রকট। ফলে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি প্যারামেডিকদের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
আলোচনায় জানানো হয়, ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) অধীনে দুই বছর মেয়াদি কমিউনিটি প্যারামেডিক কোর্স চালু হয়। বর্তমানে দেশের ৫৬টি ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি প্যারামেডিক মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও সরকারি নিয়োগ কাঠামোর অভাবে তাদের দক্ষতা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
বক্তারা আরও জানান, বিভিন্ন গবেষণায় গর্ভস্থ শিশুর হৃৎস্পন্দন পরীক্ষা, গর্ভধারণ নির্ণয়, রক্ত পরীক্ষা এবং সংকটাপন্ন রোগীকে যথাসময়ে হাসপাতালে রেফার করার ক্ষেত্রে কমিউনিটি প্যারামেডিকদের সাফল্যের হার অন্যান্য সেবাদাতাদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের প্রতি দ্রুত কমিউনিটি প্যারামেডিকদের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিয়োগ এবং তাদের দক্ষতাকে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
