বৃষ্টি হলেই থইথই পানি। কাঁদা মাড়িয়ে ক্লাসে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। খেলাধুলা তো দূরের কথা, শিক্ষকরাও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন না। গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর আমানউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্র এখন এমনই।
২০২৪ সালে স্কুল মাঠ ভরাটের জন্য সরকারিভাবে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও এক মুঠো মাটিও পড়েনি মাঠে। বরাদ্দের টাকা থাকা সত্ত্বেও কেন মাঠ ভরাট হচ্ছে না – এই প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের সুযোগে বিদ্যালয়ের তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নামে বরাদ্দের টাকা প্রধান শিক্ষক পকেটস্থ করেছেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ওয়াফিউল হাবীব সিটু বলেন, “কেউ টাকা পকেটস্থ করেনি। টাকা ব্যাংকে রয়েছে।” তবে দুই বছরেও মাঠ ভরাট না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান বলেন, “মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। পানি সেচের জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু অভিভাবকদের অভিযোগ, পানি সেচের নামে অতিরিক্ত মেশিন ভাড়া দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে এখনও অবগত নই। তবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বৃষ্টি হলেই পুরো মাঠ পানিতে ডুবে যায়। ক্লাসে আসতে গিয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। খেলাধুলা বন্ধ। অভিভাবকরা বলছেন, টাকা যখন বরাদ্দ আছে, তাহলে দ্রুত মাঠ ভরাট করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
বরাদ্দ আছে, টাকাও আছে – তবুও কেন ২ বছর ধরে মাঠ ভরাট হয় না? উত্তর খুঁজছেন দারিয়াপুরের সাধারণ মানুষ।
