মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সদস্য ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছেন। এর মধ্যেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের গতি বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ মার্চেও খবর আসে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এতে করে ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই প্যারাট্রুপাররা মূলত ওই অঞ্চলে আগে থেকেই অবস্থান করা মার্কিন নৌবাহিনী, মেরিন ও স্পেশাল অপারেশন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবেন। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই সেনা মোতায়েনের মধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, লজিস্টিক ইউনিট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তারা কোথায় অবস্থান নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের প্রধান কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে এই বাহিনী ব্যবহৃত হতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। খার্গ দ্বীপের মতো কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হলে তা ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এমন কোনো পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। এতে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দ্রুত সমাধানের কথা বলছেন, তবুও বাস্তবে প্যারাট্রুপার ও মেরিন সেনাদের এই বড় সমাবেশ একটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আকাশ ও সমুদ্রপথের পাশাপাশি স্থল অভিযানের পথও খোলা রাখছে। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের অন্তর্ভুক্তি যুদ্ধের একটি নতুন ধাপের সূচনা হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন বিশ্ব সম্প্রদায় ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
