আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও রাজনীতি থেকে বর্তমানে অনেকটাই দূরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। জীবনের এক ভিন্নধর্মী সময় পার করছেন তিনি। রাজনীতি বা খেলার মাঠ; কোথাও চিরচেনা ব্যস্ত সূচি না থাকলেও, এই বিরতিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি।
দেশের একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার বর্তমান জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সাকিব আল হাসান বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে যেকোনো মানুষই যখন তার দেশে যেতে পারে না, তখন সে অবশ্যই দেশকে মিস করবে। আমার ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম নেই; আমিও দেশটাকে ভীষণভাবে মিস করছি,। আশা করছি দ্রুতই দেশে ফিরতে পারব, সেটা হলে অবশ্যই ভালো লাগবে।
দেশে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু– এমন প্রশ্নের আশার বাণী শোনালেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী। আমি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদি দ্রুত সবকিছু সমাধান করতে পারি… নাহলে সময় লাগতে পারে। তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলতে। যত দ্রুত এগুলো সমাধান হবে, তত দ্রুত আমি ফিরতে পারব।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, ‘বর্তমানে আমি মূলত পরিবারকেই সময় দিচ্ছি। তাদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার একটা সুযোগ পাচ্ছি। সব মিলিয়ে বিষয়টিকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি।
ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিদায় নেননি উল্লেখ করে সাকিব জানান, সুযোগ পেলে তিনি খেলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। একইসঙ্গে সাবেক এই সংসদ সদস্য তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘(এখন) যেহেতু দলের কার্যক্রম নেই, তাই ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। দলীয় কার্যক্রম শুরু হলে আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারি।
রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
‘যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।
সাকিব আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়। আমি আশা করছি ভবিষতে ভালো কিছুই হবে।
জুলাই আন্দোলনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়, প্রতিটা মৃত্যুই বেদনাদায়ক। প্রতিটি জীবনই অমূল্য। আমি আগেও এটা বহুবার বলেছি। আমি চাই প্রতিটা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়ে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু কাউকে যেন অন্যায়ভাবে ফাঁসানো না হয়।
এখন পরিবারকে সময় দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছি, বলতে পারেন সেটা ইতিবাচক এক দিক থেকে। যেহেতু আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নাই সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার। দলের যখন কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারব তখন হয়ত আবার চেষ্টা করব রাজনীতিটা করার।
