প্রান্তিক সংগ্রহকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনে ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া রপ্তানির অনুমতির আশ্বাসের পরও কোরবানির ঈদের দ্বিতীয় দিনে পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। রাজধানীতে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চরম হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ বিক্রেতারা। ঢাকার আড়তগুলোতে এখন ভালো মানের কাঁচা চামড়াও মিলছে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। একদিকে বাজারে চামড়ার কম আমদানি, অন্যদিকে ধীরগতির কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছেন ট্যানারি মালিকরা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, গত বছরের তুলনায় এবার চামড়া সংগ্রহ আরও ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
শুক্রবার (২৯ মে) ঢাকার অন্যতম প্রধান চামড়ার আড়ত পোস্তাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাজার পরিস্থিতির এই করুণ চিত্র দেখা গেছে।
পোস্তা এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে আসা আব্বাস মিয়া জানান, মালিকের গরু কেটে পাওয়া দুটি চামড়া নিয়ে তিনি সকাল থেকে পাঁচটি আড়ত ঘুরেছেন। কিন্তু আড়তদারদের পক্ষ থেকে যে দাম বলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। শেষ পর্যন্ত উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে চামড়া দুটি বিক্রি না করেই তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে নিয়ে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী রহমান মিয়া ও সোলেমানের ক্ষেত্রেও। তারা জানান, চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহনে যে খরচ হয়েছে, আড়তে এসে তার অর্ধেক দামও মিলছে না।
ঈদের দ্বিতীয় দিনে চামড়ার দাম যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে আড়তগুলোতে চামড়া আসার পরিমাণও। পোস্তার আড়তদার মইনুদ্দিন বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে যেখানে দুই থেকে আড়াই হাজার চামড়া আমাদের সংগ্রহে আসে, এবার তা নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। অন্য ব্যবসায়ীদের অবস্থাও আরও নাজুক।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়, যার ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে পবিত্র ঈদুল আজহার এই মৌসুমে। এই সংগৃহীত চামড়ার অর্ধেকের বেশি গরুর চামড়া। তবে অসচেতনতা ও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছরই ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এবার ধীরগতির কারণে নষ্ট হওয়ার হার বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক সংগ্রহ গতবারের চেয়ে ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
এর আগে গত ২৭ মে, ঈদের ঠিক একদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, চামড়ার বাজারে ধীরগতি দেখা দিলে প্রয়োজনে ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হতে পারে। সে সময় তিনি প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারির আশ্বাসও দেন। তবে সরকারের এমন সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের পরও ঈদের দ্বিতীয় দিনে মাঠপর্যায়ের চামড়ার বাজারে ধস ও মূল্য সঙ্কট কাটেনি, যার ফলে ট্যানারি শিল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন বড়ো ধরনের হুমকির মুখে।
