ঢাকার খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে খালগুলোর সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব খালের সীমানা নির্ধারণ বিষয়ক একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটি অনুষ্ঠিত হয় গত ৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার নির্দেশনার আলোকে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় রাজধানীর খাল খনন, পুনরুদ্ধার, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে আলাদা দুটি কমিটি গঠন করে খালগুলোর সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এসব কমিটিতে দুই সিটি করপোরেশন, রাজউক, ঢাকা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, রাজধানীর খাল, লেক ও জলাধার শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, বরং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে খালগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কাজে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, জনবল এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকার খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রথম ধাপ হিসেবে সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। ম্যাপভেদে খালের সীমানা নিয়ে ভিন্নতা এবং একাধিক সংস্থার সম্পৃক্ততার কারণে সমন্বিতভাবে কাজ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে তা সম্ভব।
তিনি জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাইশটেকি খাল এবং কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ড সম্প্রসারণের বিষয়ে জটিলতা নিরসন করে উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্যান্য খাল পুনরুদ্ধার কাজে ব্যবহার করা হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা জেলা প্রশাসক এবং ভূমি সহকারী কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
