ঢাকাFriday , 3 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলা
  6. চট্টগ্রাম বিভাগ
  7. চাকরি
  8. ঢাকা বিভাগ
  9. ধর্ম
  10. প্রযুক্তি সময়
  11. বরিশাল বিভাগ
  12. বানিজ্য
  13. বাংলাদেশ
  14. বিনোদন
  15. বিশ্ব
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুদকে নতুন কমিশন গঠনের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি, আগামী সপ্তাহেই দায়িত্ব নিতে পারেন চেয়ারম্যান-কমিশনাররা

দেশ সময়
July 3, 2026 10:45 am
Link Copied!

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চেয়ারম্যান ও কমিশনারশূন্য থাকার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে গঠিত সার্চ কমিটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বুধবার অনুষ্ঠিত সার্চ কমিটির বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা (শর্টলিস্ট) তৈরির কাজও অনেকটাই এগিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহ অথবা তার পরের সপ্তাহের শুরুতেই নতুন কমিশন ঘোষণা করা হতে পারে।

নতুন কমিশনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে দুদক প্রশাসন। সম্ভাব্য সময়সূচি ধরে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে, যাতে চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা নিয়োগের পর দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

এরই মধ্যে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করেছে সার্চ কমিটি। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাঠাবে। যারা আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন বা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন, তাদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাইকোর্ট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও দুদকসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে সাবেক বিচারপতি, জেলা জজ, যুগ্ম জেলা জজ এবং প্রশাসনের অভিজ্ঞ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম বিবেচনায় রয়েছে। অতীতে প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তারা দুদকের চেয়ারম্যান হলেও এবার বিচার বিভাগ থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগের সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক বিচারপতি আসাদুজ্জামান, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেন, সাবেক জেলা জজ রুহুল কুদ্দুস, সাবেক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার, অবসরপ্রাপ্ত সচিব আবদুস সবুর, সাবেক অতিরিক্ত সচিব তাহসিনুর রহমান, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার নাম।

দুদকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলোর নিষ্পত্তি করা এবং অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি নতুন মামলা অনুমোদন, চার্জশিট দাখিল এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটবে এবং দুদকের কার্যক্রম আবারও পূর্ণ গতিতে শুরু হবে। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের নিরপেক্ষতা, পেশাগত দক্ষতা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুদক আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান।

আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদের জন্য মোট ছয়জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। সেখান থেকে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের একজন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ৩ মার্চ চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করার পর থেকেই দুদক কমিশনশূন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দুদক সংস্কারসংক্রান্ত অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে ২০০৪ সালের আইন পুনর্বহাল হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কমিশন গঠন করা হয়নি। যদিও আইনে কমিশনারের পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।

কমিশন না থাকায় গত তিন মাসে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন মামলা অনুমোদন, চার্জশিট দাখিল, অনুসন্ধান ও তদন্তসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার মতো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কমিশনের অনুমোদনের অভাবে আটকে রয়েছে। ফলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন কমিশনের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে, যারা সৎ, নিরপেক্ষ, দক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক। তাদের অতীত কর্মজীবন এমন হতে হবে, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বার্থের দ্বন্দ্ব কিংবা প্রশাসনিক চাপের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা প্রমাণিত হয়।

তিনি আরও বলেন, নতুন কমিশনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা। স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলেই জনগণের আস্থা ফিরবে। অন্যথায় দুদককে ঘিরে বিদ্যমান আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে, যা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারকেও প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।