desh somoy logo
ঢাকাWednesday , 24 June 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আবহাওয়া
  4. ইসলাম
  5. খেলা
  6. চট্টগ্রাম বিভাগ
  7. চাকরি
  8. ঢাকা বিভাগ
  9. ধর্ম
  10. প্রযুক্তি সময়
  11. বরিশাল বিভাগ
  12. বানিজ্য
  13. বাংলাদেশ
  14. বিনোদন
  15. বিশ্ব
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অপচয় কোথায়?

এম রহমান
June 24, 2026 7:26 pm
Link Copied!

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা সম্পদের অভাব নয়; বরং বিদ্যমান সম্পদের অপচয়। অদক্ষ মানবসম্পদ, বেকার যুবশক্তি, কাঁচামাল রপ্তানি, কৃষিপণ্যের অপচয়, অপর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির অভাব—এসব কারণে প্রতিবছর বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, মূল্য সংযোজন শিল্প স্থাপন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিকায়ন এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারবে না, বরং রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দিগন্তও উন্মোচন করতে পারবে।

বাংলাদেশের প্রধান অপচয়ের খাতসমূহ

১. মানবসম্পদের অপচয়

  • শিক্ষিত কিন্তু অদক্ষ জনশক্তি।
  • দক্ষতা উন্নয়নের অভাবে কম আয়।
  • বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে কর্মসংস্থান।

২. বেকার যুবশক্তির অপচয়

  • কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা।
  • উৎপাদনশীল শক্তিকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে না পারা।

৩. কাঁচামাল রপ্তানি ও মূল্য সংযোজনের অভাব

  • চামড়া, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য কাঁচামাল সরাসরি রপ্তানি।
  • দেশে প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সীমাবদ্ধতা।

৪. কৃষিপণ্য ও ফলমূলের অপচয়

  • সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব।
  • মৌসুমি উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সঠিক ব্যবহার না হওয়া।

৫. কৃষি ও প্রাণিসম্পদের পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার না করা

  • আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার।
  • রপ্তানিমুখী কৃষি ও পশুপালনের অপর্যাপ্ত উন্নয়ন।

৬. অপ্রয়োজনীয় আমদানি নির্ভরতা

  • দেশে উৎপাদনযোগ্য পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি।
  • বৈদেশিক মুদ্রার অযৌক্তিক ব্যয়।

পৃথিবী ঘুরে দেখা বাংলাদেশের সম্ভাবনা
আমার পর্যবেক্ষণ:-
জীবনের বিভিন্ন সময়ে কাজের প্রয়োজনে এবং ব্যক্তিগত আগ্রহে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে আমার। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সফর করেছি। এছাড়া চীনের বিভিন্ন প্রদেশ, ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং বিশ্বের আরও বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে আমার উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের চাষযোগ্য জমি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক সীমিত। মালদ্বীপে তো আরও চ্যালেঞ্জিং অবস্থা; ছোট ছোট দ্বীপ, সীমিত ভূমি এবং মূলত পর্যটন ও মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি। ইউরোপের বহু দেশ বছরের দীর্ঘ সময় তুষার ও শৈত্যপ্রবাহে আচ্ছন্ন থাকে। অনেক অঞ্চলে কয়েক মাস কৃষিকাজ কার্যত বন্ধ থাকে। তবুও তারা উন্নত অর্থনীতি গড়ে তুলেছে পরিকল্পনা, দক্ষতা এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদপ্রাপ্ত দেশ। উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত পানি, দীর্ঘ কৃষি মৌসুম, চার ঋতুর বৈচিত্র্য এবং বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তি—সবকিছুই আমাদের রয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় আমাদের দেশে সারা বছর কৃষি, শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। এমনকি জলবায়ুগত কারণে আমাদের উৎপাদনশীল সময়ও তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ।

অপচয় রোধ করলেই বদলে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি, জনশক্তি এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের সামনে উন্নয়নের অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। তবুও বাস্তবতা হলো, আমরা এখনো আমাদের অনেক সম্পদ এবং সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। ফলে অর্থনীতিতে সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক অপচয়, বৈদেশিক মুদ্রার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং মানবসম্পদের অকার্যকর ব্যবহার।

প্রথমত, আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানুষ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই জনশক্তির একটি বড় অংশ এখনো অদক্ষ বা আনস্কিল্ড অবস্থায় রয়েছে। একজন শিক্ষিত, কর্মক্ষম ও মেধাবী মানুষকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিলে ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যেই তাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একজন অদক্ষ শ্রমিক যেখানে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করেন, সেখানে একই ব্যক্তি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এক লাখ, পাঁচ লাখ কিংবা তারও বেশি আয় করতে পারেন। দেশে কিংবা বিদেশে—উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতার মূল্য অনেক বেশি। তাই মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারা জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় অপচয়।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যাকে আমরা এখনো পুরোপুরি উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করতে পারিনি। কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, দক্ষতার অভাব এবং পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকার কারণে অসংখ্য তরুণ বেকারত্ব, হতাশা ও হীনমন্যতার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে তারাই দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

তৃতীয়ত, আমাদের অর্থনীতি এখনো অনেকাংশে আমদানি-নির্ভর। অথচ দেশের অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ করে উৎপাদনমুখী খাতে নিয়োজিত করা গেলে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন-নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। পৃথিবীর প্রায় সব দেশই কাঁচামাল আমদানি করে, কিন্তু তারা সেই কাঁচামালকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করে রপ্তানি করে। বাংলাদেশেও সেই সুযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি গরুর চামড়া কাঁচামাল হিসেবে বিক্রি করলে তার মূল্য সীমিত থাকে, কিন্তু সেই চামড়া দিয়ে জুতা, ব্যাগ বা অন্যান্য পণ্য তৈরি করলে তার মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। কাঁচামাল রপ্তানির পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানি করতে পারলে দেশের রপ্তানি আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

চতুর্থত, আমাদের দেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মৌসুমি ফল, শাকসবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এর একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মৌসুমে অনেক পণ্য পানির দরে বিক্রি হয় কিংবা অপচয় হয়। আধুনিক সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে এসব পণ্য সারা বছর ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে যেমন অপচয় কমবে, তেমনি আমদানি-নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

পঞ্চমত, বাংলাদেশের কৃষি খাতের সম্ভাবনা অপরিসীম। বিশ্বের অনেক দেশ তীব্র শীত, তুষারপাত বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সারা বছর কৃষিকাজ করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে প্রায় সারা বছরই কৃষি উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, মাটির পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ এবং সঠিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে শুধু দেশের খাদ্য চাহিদাই পূরণ হবে না, উদ্বৃত্ত উৎপাদন বিদেশে রপ্তানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।

একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতেও রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। গবাদিপশু পালন, দুগ্ধ উৎপাদন, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করা সম্ভব। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নতুন রপ্তানি খাত তৈরি হবে।

সবশেষে, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক অদক্ষ অবস্থায় বিদেশে যাচ্ছেন। ফলে তারা যে বেতন পাওয়ার যোগ্য, তার অনেক কম আয় করছেন। একই ব্যক্তি যদি দক্ষ বা আধা-দক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যান, তাহলে তার আয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের রেমিট্যান্স আয়—সবই বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য নতুন কোনো অলৌকিক সম্পদের প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রয়োজন বিদ্যমান সম্পদের সঠিক ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠন, কৃষি ও শিল্পে মূল্য সংযোজন এবং অপচয় রোধ। এই অপচয়গুলো বন্ধ করতে পারলে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীই হবে না, বরং উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে চলার সক্ষমতাও অর্জন করবে। সম্ভাবনার বাংলাদেশ তখন বাস্তবেই পরিণত হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নে।

লেখক: এম রহমান,
বাজার বিশ্লেষক ও অর্থ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গোল্ড বেল কর্পোরেশন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।