গাইবান্ধা সদর উপজেলার রিফাইতপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় জর্জরিত। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৪ সালে জাতীয়করণ হওয়া এ বিদ্যালয়টি বর্তমানে শিক্ষার মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট ১৪৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ জন ছাত্র এবং ৮৩ জন ছাত্রী। প্রায় ৩৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে যাতায়াতের অনুপযোগী রাস্তা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাঁচা ও কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এতে নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।
এছাড়া বিদ্যালয়ের চারপাশে কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এতে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে ওয়ালটন কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ প্রদান করা হলেও তা শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে আরও একটি ল্যাপটপের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত তাদের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আলতাব হোসেন বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যাতায়াতের রাস্তা না থাকা। এছাড়া বাউন্ডারি না থাকায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ দিতে একটি অতিরিক্ত ল্যাপটপও অত্যন্ত প্রয়োজন।”
একজন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, “আমাদের সন্তানদের প্রতিদিনই কষ্ট করে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একটি ভালো রাস্তা এবং বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত রাস্তা নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বৃদ্ধি করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ আরও উন্নত ও নিরাপদ হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগই পারে এ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করতে।
