পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একবার জ্বালানি লোড করার পর এই কেন্দ্র টানা প্রায় দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। ফলে তেল, গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বারবার জ্বালানি সংগ্রহের ঝামেলা থাকবে না। নির্ধারিত সময় শেষে মোট জ্বালানির এক-তৃতীয়াংশ করে পরিবর্তন করা হবে।
জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে আজ ইউরেনিয়াম জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। তবে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হচ্ছে না—এরপরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
রূপপুর প্রকল্পের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে স্থাপনের জন্য প্রয়োজন হবে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল। প্রতিটি বান্ডেলে রয়েছে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড। এর আগে বাংলাদেশ মোট ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বান্ডেল স্থাপনে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন হবে, যা দিয়ে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে এবং সেখান থেকেই উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।
অর্থনৈতিক দিক থেকে শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।
